Tuesday 6 March

ট তে টয়োটা, ট তে টেকসই

ঢাকা শহরে বাসা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নাম্বার পর চোখের সামনে প্রথমে যেই ব্র্যান্ডের গাড়ীটি দেখবেন সেটি টয়োটা ব্র্যান্ডের হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতকরা ৯৫%! কি অবাক হচ্ছেন, আচ্ছা তাহলে একদিন পরীক্ষা করেই দেখুন!
 
বিগত কয়েক দশেক ধরেই বাংলাদেশ সহ জাপান, ইন্ডিয়া তথা পুরো বিশ্বেই টয়োটা মার্কেট ধরে রেখেছে। মোটামুটি কম দামে ভালো মানের ইঞ্জিন, টেকসই বডি, মন মতো পারফরম্যান্সের কারনেই বেশীর ভাগ মধ্যবিত্ত মানুষের প্রথম পছন্দ টয়োটা। রাস্তায় বেরুলেই যেই গাড়িটি সবার আগে চোখে পড়ে চলুন আজ সেই গাড়ীটির কিছু অজানা ইতিহাস আজ জেনে আসি।
 
আজ থেকে প্রায় ৮০ বছর পূর্বে ১৯৩৭ সালের ২৮এ আগস্ট কিছিরো টোয়োডা নামের এক ভদ্রলোকের সপ্নের প্রারম্ভ হয় এই গাড়ী প্রস্তুতকারক কোম্পানিটির হাত ধরে। 
৩ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪৬৫ জনের বিশাল এক দক্ষ জনবল নিয়ে গড়া আজকের এই টয়োটা কোম্পানি। জাপানের এইছিতে টয়োটার সদর দপ্তর অবস্থিত। আয়ের হিসেবে বর্তমানে টয়োটা পৃথিবীর ১১তম বৃহত্তম কোম্পানি। লেক্সাস, স্কিয়ন ও টিআরডি নামক তিনটি কোম্পানির সাথেও চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করছে টয়োটা।
 
টয়োডা থেকে টয়োটা
যদিও আমরা এই কোম্পানিকে টয়োটা নামেই চিনি কিন্তু প্রথমদিকে এটি টয়োডা নামে পরিচিত ছিলো। টয়োটার প্রতিষ্ঠাতা কিছিরো টয়োডার নামে এর নামকরণ শুরুতে টয়োডা করা হলেও পরে তিনি মনে করেছিলেন যে টয়োডা কে যদি টয়োটা নামকরণ করা হয় তাহলে এটি সহজেই ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয়তা পাবে। তার সেই সিদ্ধান্ত যে একবারে সঠিক ছিলো তা আজকে আমরা স্ব-চক্ষেই দেখতে পাচ্ছি টয়োটার জনপ্রিয়তা দেখে।
 
টয়োটার প্রথম গাড়ি
মি. টয়োডা ১৯২৯ সালে আমেরিকায় সফরকালীন সময়ে তিনি আমেরিকার অটোমোবাইল কোম্পানি গুলোর কার্যপ্রণালী গভীর ভাবে অবলোকন করেন। এভাবে তিনি ঘুরতে ঘুরতে একসময় ডজ এবং শেভ্রেলেট নামক গাড়ির ব্র্যান্ডগুলোর গাড়ির মডেল দেখে উৎসাহী হয়ে টয়োটা কোম্পানির প্রথম মডেল টয়োটা এএ (Toyota AA) নামক গাড়িটির মডেল তৈরি করেন।
 
কোরিয়ান যুদ্ধ ও টয়োটা
১৯৫০ সালে যখন কোরিয়ায় যুদ্ধ  শুরু হয় তখন সেটি টয়োটার ব্যাবসার উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে  দেউলিয়া হওয়ার পথে চলতে থাকে টয়োটা কিন্তু তখনই উদ্ধারকারী দূত হিসেবে আগমন ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের।  কিন্তু আমেরিকার টয়োটার সাথে চুক্তিতে রাজী ছিল টয়োটার তৈরি ৫০০০ গাড়ি পাঠাতে হবে আমেরিকায়, এই শর্তে। এবং চুক্তিটিও সম্পন্ন হয়েছিল এবং দেউলিয়া হবার হাত থেকে বেঁচে যায় টয়োটা।
 
টয়োটার গবেষণা
গাড়ির মার্কেট এখন প্রচুর প্রতিযোগিতাপূর্ণ প্রতিটি কোম্পানিই চায় তাদের গাড়িতে নতুনত্ব নিয়ে এসে ক্রেতা বাড়ানোর জন্য। আর গাড়িতে নতুনত্ব আনার জন্য সবচেয়ে বেশী অবদান গবেষণার। আর আশ্চর্যজনকভাবে বিশ্বে গাড়ি তৈরি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে গবেষণা খাতে সবচেয়ে বেশী ব্যায় করে টয়োটা। তাদের ব্যায়ের পরিমাণ প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার প্রতিটি গবেষণার পিছনে। টয়োটা নতুন একটি গাড়ির গবেষণার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী প্রাধান্য দিয়ে থাকে যাত্রী ও চালকের নিরাপত্তার বিষয়টি।
 
ট তে টয়োটা, ট তে টেকসই
মজবুত বডি ও মনমতো পারফরম্যান্স এর সমন্বয় হচ্ছে টয়োটা। আমরা রাস্তায় এখন যতো মডেলের টয়োটা গাড়ি দেখে থাকি তার বেশীর ভাগ গাড়িই ১০-১৫ বছর আগে তৈরি। টয়োটা গাড়ি মডেল হিসেবে পুরান হলেও তার পারফরম্যান্স সেই নতুন টয়োটার মতোই থাকে। সারা বিশ্বেই টয়োটা টেকসই গাড়ি হিসেবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে ইতিমধ্যে। তাই আমরা বলতেই পারি, ট তে টয়োটা, ট তে টেকসই।
 
সারা বিশ্বেই টয়োটা টেকসই গাড়ি হিসেবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে ইতিমধ্যে। তাই আমরা বলতেই পারি, ট তে টয়োটা, ট তে টেকসই।
 
টয়োটার কিংবদন্তী মডেল টয়োটা করোল্লা
টয়োটার এ যাবত যত মডেলের গাড়ি বের হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় মডেল হচ্ছে করোল্লা মডেলটি। হিসেব মতে এ পর্যন্ত পুরো বিশ্বে ৪৪.১ মিলিয়ন টয়োটা করোল্লা বিক্রি হয়েছে। ১৫০ টিরও বেশী দেশে করোল্লা মডেলের গাড়ীটি রয়েছে। তাই কেবল টয়োটার মডেলগুলোর মাঝেই নয় পুরো গাড়ির দুনিয়াতেই টয়োটা করোল্লা মডেলটি একটি জীবন্ত কিংবদন্তী।
 
টয়োটার কনসেপ্ট কার
বিশ্ববিখ্যাত দুই গাড়ি কোম্পানি টয়োটা এবং বিএমডব্লিউ একত্রে মিলে নতুন একটি কনসেপ্ট কার নিয়ে কাজ শুরু করেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা এবং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যাবহার করে তৈরি করা হচ্ছে এই গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে। বিশ্বব্যাপি কোটি কোটি গাড়ি ক্রেতা অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে এই গাড়িটির জন্য। হয়তো গাড়ি জগতে নতুন এক বিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছে টয়োটা আর বিএমডব্লিউর নতুন এই কনসেপ্ট কারটি।
 
সপ্নঘুড়ির সাথে থাকার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ । আমাদের পোস্ট গুলো যদি ভালো লেগে থাকে বা ইনফরমেটিভ হয় তাহলে প্লিজ শেয়ার করুন আপনার বন্ধু দের সাথে ।
"স্বপ্ন দেখুন, স্বপ্ন নিয়েই বাচুন, অন্যের স্বপ্ন কে উৎসাহ দিন"