Friday 1 December

সুইডেনের উচ্চশিক্ষায় যেতে ইচ্ছুক ?

সুইডেন, উচ্চশিক্ষার জন্য এক আদর্শ যায়গা। কিভাবে যাবেন কি কি লাগবে ?
সুইডেন পৃথিবীর বাসযোগ্য শহরের তালিকায় প্রথম কাতারে অবস্থানরত একটি দেশ। যে দেশ থেকে দেওয়া হয় নোবেল পুরস্কার এর মতো বড় সম্মাননা। উত্তর ইউরোপের এ দেশটি বাল্টিক সাগরের পশ্চিমে অবস্থিত। জনসংখ্যা মাত্র ১০ মিলিয়ন। পড়াশুনা আর গবেষণার তীর্থস্থল বললেও ভুল হবে না সুইডেন কে। বাংলাদেশ থেকে আমরা অনেকেই সপ্ন দেখি সুইডেনে গিয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার। কিন্তু সঠিক দিক নির্দেশনা আর ইনফরমেশন এর জন্য অনেকেই বুঝে উঠতে পারছেন না কিভাবে কি শুরু করবো ! তাদের জন্যই আজকে আমাদের এ ফিচার। আর যেসব শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর পড়ছেন বা পড়া শেষ তাদের জন্যই মূলত এই লিখা টি।
 
IELTS কি লাগবেই?
আপনি যদি ভিসা পেতে খুবি ইচ্ছুক হোন তাহলে আপনার লাগবেই। ইউরোপের অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মতো সুইডেনেও স্নাতকোত্তর কোর্স গুলোর শর্ত হচ্ছে  IELTS এ কমপক্ষে ৬.৫ লাগবেই বা তার বেশী হলে ভালো হয়। আর আপনি যদি স্নাতকোত্তর ইংরেজী মাধ্যমে পড়াশুনা করে থাকেন তাহলে IELTS ছাড়াও আবেদন করতে পারবেন ভর্তির জন্য কিন্তু সেক্ষেত্রে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। তাই আমাদের সাজেশন হচ্ছে IELTS দিয়েই সুইডেনে উচ্চ শিক্ষার জন্য আবেদন করুন। কারণ, IELTS এর একটি ভালো স্কোর আপনার জীবনে আরো অনেকাংশেই কাজে লাগবে।
 
টিউশন ফি কি পরিমাণ এবং স্কলারশিপের ব্যবস্থা আছে কিনা?
আমাদের দেশের ভার্সিটি গুলোর মতোই সুইডেনেও বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর টিউশন ফি একেক বিশ্ববিদ্যালয় এর একেক রকম হয়। আর তার নির্দিষ্ট পরিমাণ টিউশন ফি জানতে হলে আপনি যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে চান তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনাকে খোজ নিতে হবে। তবে গড় হিসেব মতে বছরে সর্বনিম্ন ৬-৭ লাখ টাকা হয়ে থাকে। এবার আসি স্কলার শিপ প্রসঙ্গে, সুইডেনে সাধারণত ২ ধরনের স্কলারশিপের ব্যবস্থা আছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া টিউশন ফি এর উপর স্কলাশিপ। আরেকটি, সুইডেন সরকার এর পক্ষ থেকে দেওয়া স্কলারশিপ।যেই স্কলারশিপটি SI নামেও পরিচিত। তবে SI স্কলারশিপের জন্য ৩,০০০ ঘন্টা সর্বনিম্ন কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা লাগবে। স্কলারশিপের প্রক্রিয়া ও কখন কিভাবে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে হয় তার প্রসেস ইত্যাদি আপনাকে নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এর ওয়েবসাইটে গিয়ে ভালো করে বুঝে স্কলারশিপের জন্য আলাদ ভাবে আবেদন করতে হবে।
 
ব্যাংক স্টেটমেন্ট কি লাগবে ?
হ্যা সুইডেনে স্টুডেন্ট ভিসা পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে। আপনার আবেদনকৃত কোর্স টি যদি ১ বছরের হয়ে থাকে তবে আপনাকে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা দেখাতে হবে। আর যদি ২ বছরের কোর্স হয় তাহলে ১৬-১৭ লাখ টাকা দেখাতে হবে। আপনি ভিসা আবেদন করার ৩ মাস আগেই ব্যাংক এ জমা দিতে হবে এবং ভিসা না পাওয়া পর্যন্ত একাউন্টে আপনার টাকা রাখতে হবে। মজার ব্যপার হলো ব্যাংকে আপনার জমাকৃত টাকার উৎস সম্পর্কে কোন ভেরিফিকেশন সাধারণত হয় না। তাই এ ব্যাপারে চিন্তা না করলেও হবে।
 
পড়াশোনা শেষে সুইডেনে থাকা যাবে কিনা?
সুইডেনে আপনার পড়াশুনা শেষে চাকরি খোজার কারণ দেখিয়ে ভিসার সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে পারেন। তারপরের ৬ মাসের মাঝে যদি আপনি ফুলটাইম জব পেয়ে যান তাহলেই কেবল আপনি কাজ করার ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন সুইডিশ সরকারের কাছে। আপনার আবেদন যদি তারা গ্রহণ করে তবে সেই ভিসার মেয়াদ হবে ২ বছর। অর্থাৎ আপনি ২ বছর সুইডেনে কাজ করার অনুমতি পেলেন। আর পড়াশুনা অবস্থাতেই আপনার সাব্জেক্ট এর ৩০ ক্রেডিট শেষ করার পর আপনি যদি ফুল টাইম কাজ করার অফার পেয়ে থাকেন তাহলে আপনি স্টুডেন্ট ভিসা থেকে ওয়ার্ক ভিসায় যেতে পারবেন। এভাবে আপনি আপনার কাজের দক্ষতা দেখিয়ে স্টুডেন্ট লাইফ থেকেই ভবিষ্যতে থাকার বন্দোবস্ত করতে পারেন।
 
পার্ট টাইম চাকরি কি পাওয়া যাবে?
ইউরোপের দেশ গুলোতে পড়াশুনার পাশাপাশি সহজেই পার্ট টাইম চাকুরি জুটিয়ে নিজের পকেট খরচ কিংবা কিছু টিউশন ফি ম্যানেজ করা যায়। সুইডেনের বড় শহর গুলো তে আপনি সহজেই পার্ট টাইম চাকুরি মিলিয়ে ফেলতে পারবেন আর ছোট শহর গুলোতে হয়তোবা একটু দেরী হতে পারে চাকুড়ি পেতে।
 
পরিবার নেওয়া যাওয়া কি?
বিবাহিত কাপল রা সুইডেন এর দুর্বল হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এটি। হ্যা, আপনি প্রপার প্রসেস মেনে চাইলে স্বামী – স্ত্রী ও বাচ্চা দের নিয়ে যেতে পারবেন। তবে ফ্যামিলি ভিসার জন্য বেশী পরিমাণ টাকা ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হয়। আরো মজার খবর হলো স্বামী – স্ত্রী চাইলে একসাথে পড়াশুনা ও করতে পারবে সম্পূর্ণ বিনা খরচে। সাথে চাকুরি ও করতে পারবে আর তার জন্য আলাদ কোন ভিসা বা সরকারি অনুমতির ও দরকার নেই।
 
সুইডেনের স্টুডেন্ট ভিসার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
  • ১৬ অক্টোবর, অনলাইনে সার্ভিস খোলা হয়।
  • ১৫ জানুয়ারি আবেদনের শেষ দিন।
  • ১ ফেব্রুয়ারি আবেদন ফি এবং যাবতীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।
  • ৬ এপ্রিল আপনি নির্বাচিত হয়েছেন কিনা, সেটি এই তারিখে আপনাকে জানয়ে দেওয়া হবে।
সুইডেনে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়াঃ
প্রথম ধাপ: একাউন্ট খোলা – 
আপনাকে প্রথমে সুইডেন ইউনিভার্সিটির এডমিশন সাইটে একাউন্ট খুলতে হবে। https://www.universityadmissions.se/intl/start এই ওয়েব সাইটে গেলেই আপনি পেয়ে যাবেন একাউন্ট খোলার প্রসেস। আপনি সঠিক তথ্যাদি দিয়ে একটি একাউন্ট খুলবেন কেবল। মনে রাখবেন একি রকম তথ্যাদি দিয়ে একের বেশী একাউন্ট খুললে সব বাতিল হয়ে যাবে। তাই সতর্ক থাকবেন।
 
দ্বিতীয় ধাপ: প্রোগ্রাম খুঁজে বের করা
আপনার পছন্দের ইউনিভার্সিটির ওয়েব সাইটে গিয়ে পছন্দের সাব্জেক্ট খুজতে পারেন। https://www.universityadmissions.se/intl/search অথবা এখান থেকেও সার্চ করে আপনার পছন্দের বিষয় খুজে দেখতে পারবেন। একটি সেমিস্টার এ আপনি সরবোচ্চ ৪টি কোর্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। আপনার ই-মেইল থেকে কোর্স এপ্লিকেশন নিশ্চিত করতে পারবেন।
 
৩য় ধাপ: এপ্লিকেশন ফি এবং কাগজপত্র পাঠানো
আপনাকে সুইডেনে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনের জন্য এপ্লিকেশন ফি ৯,০০০ টাকা দিতে হবে আর সুইডিশ মূল্যে ৯০০ সুইডিশ ক্রোনার। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আপনাকে এই টাকা জমা দিতে হবে। কিছু ডকুমেন্ট পাঠাতে হয় আর কিছু ডকুমেন্টের সফট কপি আপলোড করতে হয় এপ্লিকেশনের সাথে। সাধারণত আপনার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সার্টিফিকেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সত্যায়িত করে পাঠাতে হবে এবং IELTS, মোটিভেশান লেটার, পাসপোর্টের কপি ইত্যাদি আপলোড করলেই হবে। আর কী কী ডকুমেন্ট লাগে, সেটি আপনার কোর্সের শর্তাবলী থেকে দেখে নিতে হবে। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সিভি, মোটিভেশনাল লেটার ইত্যাদিও চায়। বাংলাদেশি ছাত্রদের জন্য কী কী ডকুমেন্ট লাগবে, সেটি দেখে নিতে পারেন https://www.universityadmissions.se/en/All-you-need-to-know1/Applying-for-studies/Documenting-your-eligibility-for-studies/Instructions-for-Masters-applicants/Specific-requirements-for-my-country1/bangladesh/  আপনি এডমিশন পেয়েছেন কিনা সেটি জানার জন্য ডকুমেন্ট পাঠানোর পর ৬ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে । যদি অফার লেটার পান, তাহলে এক সেমিস্টারের টিউশন ফি জমা দিয়ে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে মাইগ্রেশন বোর্ডে।

 

প্রয়োজনীয় কিছু ওয়েবসাইটের লিংক
ধন্যবাদ