Friday 19 January

সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং- হিউমেন হ্যাকিং (প্রথম পর্ব)

যখন ই হ্যাকিং টার্ম টি আসে, তখন ই চোখের সামনে ভেসে উঠে একটি হুডি পড়া প্রোগ্রামার আর তার কম্পিউটার। কিন্তু আমরা সবচেয়ে সাধারণ আর চোখের সামনে অহরহ ঘটে যাওয়া হ্যাকিং-ই খেয়াল করি না। যা হচ্ছে মানব হ্যাকিং। যার আরেক নাম সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। বস্তুত পক্ষে, একজন মানুষ কে জিতানোর লোভ দেখিয়ে কিংবা বোকা বানিয়ে  নিজের স্বার্থ হাসিল করাই হচ্ছে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং।

এর ভাল ব্যাখ্যার জন্য কিছু মুভি দেখতে পারেনঃ

  • Catch Me If You Can (2002)
  • Now You Can See Me (2013)
  • Baazigar (1993)

"সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং" শব্দটা অনেকের কাছে নতুন মনে হলেও এটা হাজার হাজার বছর পুরোনো একটি পদ্ধতি।

কয়েকটি উদাহরণ এর মাধ্যমে শুরু করা যাকঃ

  • টেলিভিশন এ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আপনার কাছে প্রোডাক্ট বিক্রয় করতে চাওয়া
  • বাচ্চারা তাদের বাবা-মা কে কিছু একটা কিনে না দেওয়ার জন্য অপরাধবোধ করানো
  • কোকাকোলার ১ বিলিয়ন পাউন্ড লটারি জিতার ইমেইল
  • একজন ব্যাংক ডাকাতের কাপরের নিচে লুকানো খেলনা পিস্তল

সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ইতিহাসঃ

অনেকেই আমরা ট্রোজান ভাইরাস সম্পর্কে জানিকিন্তু এটা কি? কিছু পেইড সফটওয়্যার ফ্রি তে ডাউনলোড কিংবা পাড়ার কম্পিউটার দোকান থেকে কিনা সিডি থেকে ইন্সটল করা সফটওয়্যার সাধারণত ট্রোজান ভাইরাস থাকেফ্রি তে পেলে আসলে এখানে ফ্রি প্রোডাক্ট টি হচ্ছে আপনি এবং আপনার কম্পিউটারখ্রীষ্টপূর্ব ১১৪৪ সালে ট্রয় নগরীতে গ্রীক ট্রোজানদের মধ্যে যুদ্ধ সংগঠিত হয়দীর্ঘ ১০ বছর যুদ্ধের পর যখন গ্রীকরা ট্রোজানদের শক্তিশালী দূর্গে প্রবেশ করতে ব্যার্থ হয়, তখন তারা একটি সৃজনশীল বুদ্ধি নিয়ে আসেতারা একটি বিশাল কাঠের ঘোড়া বানায় এবং তাদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল যোদ্ধাদের এর ভিতর লুকিয়ে রাখেঅতঃপর তারা এই ঘোড়া টিকে ট্রয়দের দূর্গের সামনে রেখে চলে যায়ট্রয়ের লোকেরা এটা দেখে নিজেদের জয়ের প্রতিকৃতি স্বরূপ উপহার ভেবে টেনে ভিতরে নিয়ে যায়রাতের আঁধারে গ্রীকরা সেই ঘোড়া থেকে বেরিয়ে ট্রোজান এর মতো শক্তিশালী রাজ্য কে পরাজিত করে

সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে আরো কিছুঃ

সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাদের বোকা বানিয়ে অথবা লোভ দেখিয়ে স্বার্থ হাসিল করা, যেটা অন্য কোনভাবে করা সম্ভব না। এটি একটি ভেক্টর পদ্ধতি।  এটি হচ্ছে গন্তব্যে পৌছানোর কৌশল। অর্থাৎ, গন্তব্য নয়, গন্তব্যে পৌছানোর জন্যে পোড়ানো কাঠ-খড়।

 

মানুষ হচ্ছে শক্ত খোলসে ঢাকা নরম মনের অধিকারী আধুনিক সিকিউরিটি সিস্টেম এর রক্ষক।

মানুষকে  Crack করা অনেক ক্ষেত্রে এইসব সিস্টেম  Crack করার চাইতে সহজ।       

পদ্ধতিঃ    

সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ৭টি পদ্ধতি-   

১. লোভ দেখানো

২. ভয় দেখানো

৩. জরুরী অবস্থা

৪. কৌতূহল

৫. সহানুভূতি

৬. সরকারের প্রতি আনুগত্য এবং

৭. অসাবধানতা  

 

এই ভিডিউটি দেখে বুঝতে পারবেন কিভাবে একজন প্রফেশনাল হ্যাকার একটি বাচ্চার কান্নার আওয়াজ ব্যবহার করে একজন এর মোবাইল একাউন্ট হ্যাক করতে পারে -

                                                                                                                           

অজ্ঞাত লিঙ্ক প্রবেশ করানোর মাধ্যমে তথ্য হাসিলও সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর একটি পদ্ধতি

পরবর্তি আর্টিকেল এ সব পদ্ধতি ও প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো, ইন শা আল্লাহ ...

সপ্নঘুড়ির সাথে থাকার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ । আমাদের পোস্ট গুলো যদি ভালো লেগে থাকে বা ইনফরমেটিভ হয় তাহলে প্লিজ শেয়ার করুন আপনার বন্ধু দের সাথে । স্বপ্ন দেখুন, স্বপ্ন নিয়েই বাচুন, অন্যের স্বপ্ন কে উৎসাহ দিন ।