Thursday 4 January

নীল আকাশের নীলগিরি

নীল আকাশের নীলগিরি !
ভাবতাম যে এর নাম নীলগিরি হলো কেনো ! গিরি দিয়ে হয়তো পাহাড় বুঝায় কিন্তু পাহাড় কি কখনো নীল হয়! নীল তো হয় সমুদ্র । তবে শুনাবো আজ আপনাদের কেন বান্দরবানের এই জায়গা কে নীলগিরি বলে ! বনাদরবান-থানচি রোডে বান্দরবান শহর থেকে ৪৭ কি.মি. দূরে নীলগিরির অবস্থান। এ আমাদের ঢাকা- চট্রগ্রাম রোডের সমতল ৪৭ কি.মি. না। পাহাড়ের গা বেয়ে আকা বাকা এই ৪৭ কি.মি জার্নি হতে পারে আপনার জীবনের সেরা ভ্রমণ। এ রাস্তার সৌন্দর্য আপানকে আজীবন ভাবাবে যে আল্লাহ প্রকৃতি কত সুন্দর করে সাজিয়েছেন!
দূর থেকে যখন দেখতে পারবেন সামনের পাহাড়ের চূড়ায় পিচঢালা পথ দেখা যাচ্ছে তখন আপনি আনমনেই ভাববেন বাপরে,ওখানে উঠবো কিভাবে! আর রাস্তার প্রতি টি ৪৫ ডিগ্রি বাকে বাকে আপনি জীবনের সেরা কিছু থ্রিলিং পাবেন। রোলার কোষ্টারে চড়ার স্বাদ তখন অনেকটাই ভুলতে বসবেন। আর নীলগিরির চূড়ায় উঠার পর বুঝতে পারবেন যে এর সৌন্দর্য কতটা অপার্থিব ।
আমরা ৪ জনের দল ভোর ৫ টায় আগের রাতে ঠিক করা মাহিন্দ্রা গাড়িতে চড়ে বসি নীলগিরির উদ্দেশ্যে। কারণ, ভোর বেলায় যে নীলগিরির মেঘ ধরতে হবে ! ঘুম ঘুম চোখে তড়িঘড়ি চড়ে বসলাম মাহিন্দ্রা গাড়ী তে। বান্দরবান শহরের ভেতর দিয়েই যাত্রা শুরু হল। কিন্তু ২ কি.মি যাওয়ার পরেই বুঝলাম আর যাই হোক এ রাস্তায় গাড়ী তে বসে ঘুমানোর বুদ্ধি আর কাজে লাগছে না । একেকটি মোড় শরীরের সব কটা হাড্ডী যেন নাড়িয়ে দিচ্ছিলো। আস্তে আস্তে রাস্তা খাড়া হতে থাকলো। যত যাচ্ছি তত উপরে উঠছি! কয়েকবার তো মনে হলো এই বুঝি গাড়ি স্লিপ খাচ্ছে! ঘুম টুম তখন উধাও। উধাও হবেই বা না কেনো! এত উচু থেকে চারপাশের পাহাড় আর মেঘের ভেলার সৌন্দর্য আপনাদের কে আমি লিখে কোনভাবেই বুঝাতে পারবো না। মুগ্ধ নয়নে চারপাশের মেঘ দেখছি আর জনপদ গুলো কে ছোট হতে দেখছি আস্তে আস্তে। পথিমধ্যে কয়েকটী উপজাতিদের পাড়া দেখলাম আর বিজিবি ক্যাম্পে চেক ইন করলাম। প্রায় ২ ঘন্টার এক রোমাঞ্ছকর ভ্রমণ শেষে সকাল ৭ টার দিকে আমারা নীলগিরির বুকে পা রাখলাম। ৫০ টাকা টিকেট কেটে ঢুকে গেলাম উচু পথ ধরে। এখানে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প আর পুরো জায়গা টাই তাদের অধীনে। বুঝতে চেষ্টা করলাম কত টা কস্ট করে সেনাবাহিনীরা এ রাস্তা আর নীলগিরির চূড়ায় কটেজ গুলো বানিয়েছে ! পরে জানতে পারলাম ২২ কি.মি. রাস্তা বানাতেই নাকি ১০ বছরের মতো লেগে গিয়েছে।
নীলগিরির চূড়া থেকে আপানর মনে হবে, নীল আকাশ টা বুঝি ওইতো ঝুলে থাকা মেঘের সাথেই লেপ্টে আছে! কারণ, স্থানীয়দের ভাষ্যমতে আপনি তখন মাটি থেকে ৩৫০০ ফুট উপরে দাঁড়িয়ে আছেন! পুরো নীল আকাশটাকে খুব আপন মনে হবে আপনার। আর চোখ বুলিয়েই আশেপাশে দেখতে পাবেন নাম না জানা অসংখ্য পাহাড়। ভাগ্য ভালো হলে মেঘের দলের ভেতর গা ডাকা ও দিতে পারবেন। মেঘ এসে আপানকে ভিজিয়ে দিয়ে কখন যে চলে যাবে টের ও পাবেন না ! নীল আকাশের নিচে শ্বেত শুভ্রের মতো মেঘমালা আপনাকে সম্মোহিত করে ফেলবে। জীবনের মানে টা হয়তো তখন নতুন করেই খুঁজে পাবেন। কারণ, আমি পেয়েছিলাম।
 
কিভাবে যাবেন –
দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে বান্দরবান যাবেন। বান্দরবন শহর থেকে সিএনজি অথবা মাহিন্দ্রা গাড়ি ভাড়া করে যেতে পারেন। ভাড়া ২০০০-২৫০০ টাকা। চাঁদের গাড়ি তেও যেতে পারেন ১০-১২ জনের দল হলে। সেক্ষেত্রে ভাড়া একটু এদিক সেদিক হতে পারে । অথবা বান্দরবান-থানচি বাসেও যেতে পারেন পথে নীলগিরিতে নেমে যাবেন, ভাড়া প্রতিজন ২০০-২১০ টাকা নিবে। তবে বাসের সময়সূচী জেনে নিবেন। আর বাসে অনেক সময় লাগবে।
 
আরো কিছু তথ্য -
নীলগিরিতে গেলে একি সাথে আরো ২টী যায়গাতে পথিমধ্যে ঘুরতে পারেন। একটি চিম্বুক পাহাড়, আরেকটি শৈলপ্রপাত। চিম্বুক পাহাড়ের গেটে ২০ টাকা করে নিবে প্রতিজন। এই ছিলো আমাদের নীলগিরির ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। প্রকৃতির অপার এই সৌন্দর্য অনুভব করতে চাইলে আপনিও ঘুরে আসুন নীলগিরি থেকে। তাহলে বুঝতে পারবেন , যে আমাদের দেশ টাও কতো টা সুন্দর! ধন্যবাদ সবাইকে কস্ট করে আমার হ-জ-ব-র-ল লিখা পড়ার জন্য। আপনার নীলগিরি যাত্রার জন্য রইলো অগ্রিম শুভেচ্ছা।

সাধারণ পর্যটক দের জন্য নীলগিরি কটেজে বুকিং ব্যবস্থা –

ওয়েবসাইট - nilgiriresort.com

ফোন – ০১৭৬৯২৯৯৯৯৯

( ভ্রমন সম্পর্কীয় আরো লিখা চাইলে কমেন্ট করুন কোন জায়গা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। আশা করি অতি দ্রতই আমরা আপনার মতামত সাপেক্ষে সেই জায়গা সম্পর্কে ব্লগ শেয়ার করবো আপনাদের সাথে )

সপ্নঘুড়ির সাথে থাকার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ । আমাদের পোস্ট গুলো যদি ভালো লেগে থাকে বা ইনফরমেটিভ হয় তাহলে প্লিজ শেয়ার করুন আপনার বন্ধু দের সাথে । স্বপ্ন দেখুন, স্বপ্ন নিয়েই বাচুন, অন্যের স্বপ্ন কে উৎসাহ দিন ।