Friday 13 July

মায়াবিনী মুপ্পছড়া ঝর্ণা

মুপ্পোছড়া! নামটাই কেমন বিদ্ঘুটে তাইনা!! সাধারণ মানুষের কাছে বিদঘুটে নাম হলেও বাংলার ঝর্না প্রেমীদের কাছে নামটা ঠিকি ভারী মিস্টি!

মিষ্টি হবেই বা না কেন!! অল্প কষ্টে বেশী মিষ্টি আরকি! কারণ, বেশীরভাগ সুন্দর ঝর্ণাগুলোই লুকিয়ে থাকে গভীর পাহাড়ি অঞ্চলের ভিতরে। যেখানে ট্রেক করে যাওয়া বেশ কস্টসাধ্যই বলা চলে। সেই তুলনায় ঘন্টাখানেক ট্র্যাকিং করেই চলে যাওয়া যায় এই সুন্দরি মুপ্পোছড়ার মুখপানে।  প্রায় ৩০০ ফিটের মতো উঁচু থেকে নিরেট পাথরের পাহাড়ি সিড়ি বেয়ে স্বচ্ছ পানি গড়িয়ে পড়ছে আপনার পায়ের কাছে। হ্যা মুপ্পোছড়ার দৃশ্যটা এমনি দেখতে পাবেন আপনি। মনে হবে উপরে কোন হুরপরী বুঝি গোসল করছে চুপিসারে। কিন্তু আপনি ঠিকি দু চোখ ভরে উপভোগ করতে পারবেন সুন্দর এই ঝর্নাটির সৌন্দর্য।

মুপ্পোছড়া ঝর্নাটি চট্রগ্রাম বিভাগের রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার বাঙ্গালকাট নামক জায়গায় অবস্থিত। বিলাইছড়ি বাজারের হাঁসপাতাল ঘাট  থেকে বোটে করে বাঙ্গালকাট ২৫ মিনিটের বোট জার্নির মাঝেই পৌছে যেতে পারবেন বাঙ্গালকাট পৌছে সেখান থেকেই শুরু হবে ঝিরিপথ ধরে মুপ্পোছড়ার দিকে অভিযান।

ছবিঃ বাঙ্গাল্কাট পল্লীর প্রান্তে, যেখান থেকে শুরু হবে ঝর্ণায় যাওয়ার ট্র্যাকিং

বাঙ্গালকাটায় কিছু পাহাড়ি পল্লী দেখতে দেখতে আস্তে আস্তে পাহাড়ের দেশে হারিয়ে যাবেন আপনি, ভয় নেই, ঝিরিপথ ধরে এগুতে থাকবেন মাঝে বেশ কিছু ছোট বড় ক্যাসকেডের দেখা মিলবে।

ছবিঃ ঝিরিপথ ধরে আমরা যখন ঝর্ণার পথে

মাঝে পেয়ে যাবেন আরেকটি ঝর্না যেটিকে ন-কাটা ঝর্না বলা হয়। কিছুদিন আগে পাহাড় ধ্বসে একটি পাহাড়ি ঢাল ভেঙে যাওয়াতে যায়গাটি একটু বিপজ্জনক হয়ে গিয়েছে, তাই ন-কাটায় ঝর্নায় একটু সাবধানে থাকবেন! একটু পা পিছলে পড়লে কিন্তু কেল্লা ফেতে!

ছবিঃ ন-কাটা ঝর্ণার একদম উপর থেকে (এখানে কিন্তু খুব সাবধান! একটু পা এদিক-ওদিক হলেই শেষ)

ঝিরিপথের গা জুড়ানো শীতল পথ ধরে এগুতে এগুতে ঘন্টাখানেকের মাঝে পৌছে যাবেন মুপ্পোছড়ার সামনে। এবার কেবল নিখাদ মুগ্ধতা নিয়ে আল্লাহর অপার সৌন্দর্যের এই সৃষ্টি উপভোগ করুন।

ছবিঃ মায়াবিনী মুপ্পছড়া ঝর্ণা

মূল ঝর্ণার বাম পাশ দিয়ে কিছু উঁচু পাহাড়ি সিড়ি দেখতে পাবেন, সাহস আর কনফিডেন্স থাকলে ঊঠে যেতে পারেন সেটুকু সিড়ি, তাহলে হয়তো নতুন করেই আবার মুপ্পোছড়ার সৌন্দর্য আপনার কাছে ধরা দিবে।  তবে যায়গাটি কিন্তু পিচ্ছিল থাকবে। তাই একটু সাবধানে উঠবেন।

এখন নিশ্চই লোভনীয় পর্যটক ভাই-বোন দের মনে প্রশ্ন জাগছে যাবো কিভাবে, থাকবো কই, আর খাবোই বা কি, কোথায়!! বলছি সেসব ভাই--

যাবেন যেভাবে-

ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে কাপ্তাই ঝেটিঘাট। হানিফ, সৌদিয়া, শ্যমলী,এস আলম বাস যায় ভাড়া ৫৫০ টাকা করে। বেস্ট হবে সৌদিয়া। ঝেটিঘাট থেকে লোকাল বা রিজার্ভ বোটে বিলাইছড়ি। লোকাল বোটের ভাড়া পড়বে ৬০ টাকা করে প্রতিজন আর রিজার্ভ নিলে ১৫০০-২০০০। লোকাল বোট ছাড়া শুরু হয় সকাল ৮.৩০ থেকে। তারপর প্রতি ১/১.৩০ ঘন্টা পর পর বোট ছেড়ে যায়।  বিলাইছড়ি থেকে আবার বোট রিজার্ভ করে বাঙ্গালকাটা যাবেন। এখানে বোট ভাড়া পড়বে ১০০০ টাকার মতো সেখান থেকে লোকাল গাইড নিয়ে চলে যাবেন মুপ্পোছড়ায়। গাইড ফি ৩০০-৫০০ টাকা।

থাকবেন যেখানে -

রাতে থাকার জন্য বিলাইছড়ি তে কিছু মধ্যমমানের বোর্ডিং হাউস পাবেন। নিরিবিলি বোর্ডিং বেশ নামকরা সেখানে। চাইলে সেখানে থাকতে পারেন। ডাবল বেড ৫০০ টাকা আর সিঙ্গেল বেড ৩০০ টাকা দরে থাকতে পারবেন এখানে।

খাবেন যেখানে আর যা খাবেন - খাওয়ার জন্য নিরিবিলি বোর্ডিং এর পাশেই ভাত ঘর নামে একটি হোটেল আছে, সেখানে ভাত, বনমোরগ, গরু, কাপ্তাই লেকের মাছ পাবেন। অর্ডার দিয়ে সেখান থেকে খেতে পারেন। ১০০-১২০ টাকার মাঝেই পেট পুরে এক বেলা খেয়ে নিতে পারবেন এখানে।  এছাড়াও আরো অনেক হোটেল পাবেন। যেটা ভালো লাগে সেটিতে নিজ দায়িত্বে পেট পূজাটা সেরে নিবেন।

সময় করে বেরিয়ে পড়ুন তাহলে মুপ্পোছড়ার পথে, আপনার যাত্রার জন্য সপ্নঘুড়ি টিমের পক্ষথেকে রইলো অনেক অনেক শুভকামনা।