Wednesday 4 July

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত - ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত

প্রকৃতিপ্রেমিদের কাছে ঝর্ণা বা জলপ্রপাত অনেক আকর্ষণীয় একটি জায়গা। সুযোগ পেলেই আমরা ছুটে যাই দেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন স্থানে ঝর্ণা বা জলপ্রপাতের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে। আজ আমরা কথা বলব পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত- ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত ‘Victoria Falls’ নিয়ে।

আমরা অনেকেই নায়াগ্রা জলপ্রপাতকে পৃথিবীর বৃহত্তম জলপ্রপাত হিসাবে জানি। কিন্তু সবদিকথেকে বিবেচনা করে ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতই পৃথিবীর বৃহত্তম জলপ্রপাত। এই দৈত্যাকার জলপ্রপাতটির অবস্থান আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তে। জাম্বেসি নদীর পানিই ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের প্রধান উৎস। জলপ্রপাতটি জিম্বাবুয়ের অংশ থেকে দেখা যায় প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ,অন্য দিকে জাম্বিয়া অংশ থেকে দেখা যায় ২০ থেকে ১৫ শতাংশ।

ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতকে সর্বাধিক ১ হাজার ৭০৮ মিটার (৫,৬০৪ ফুট) এবং ১০৮ মিটার (৩৫৪ ফুট) উচ্চতায় সংযুক্ত করা হয়, যার ফলে পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাহের পানির পতন হয়। এই জলপ্রপাতটির উচ্চতা আমেরিকার নায়াগ্রা জলপ্রপাতের প্রায় দ্বিগুণ এবং প্রস্থে নায়াগ্রার একটি জলপ্রপাত ‘Horseshoe Falls’  এর দ্বিগুণ চওড়া!

ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত এর শব্দ প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে থেকে শোনা যায়, যখন জলপ্রপাতটির পতনশীল পানি থেকে স্প্রে এবং কুয়াশা ৪০০ মিটার উচ্চতায় বৃদ্ধি হয় এবং ৫০ কিলোমিটার দূরত্ব থেকেও এটি যখন দেখা যায়। এই কারনে-

স্থানীয় উপজাতিরা এই জলপ্রপাতকে মোশি-ও-টুনিয়া “দ্য ধোঁয়াশে গর্জনকারী” বলে ডাকে।

স্কটিশ মিশনারি এবং বিখ্যাত এক্সপ্লোরার ডেভিড লিভিংস্টোন(১৮১৩ - ১৮৭৩) এই বিখ্যাত জলপ্রপাতটি আবিষ্কার করেন। আফ্রিকা থেকে খ্রিস্টধর্ম প্রচার করার সময় ১৮৫৫ সালে দক্ষিণ-উত্তর থেকে আফ্রিকা অতিক্রম করার জন্য লিভিংস্টোন এই আশ্চর্যজনক জলপ্রপাতটি আবিষ্কার করেছিলেন। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, এ কারণেই লিভিংস্টোন তার আবিষ্কারের মাধ্যমে খুব একটা খুশি ছিলেন না কারন এটি ছিল তার পথের একটি বাধা। পরে এই জলপ্রপাতটির নাম রানি ভিক্টোরিয়ার নামে নামকরন করা হয়েছে।

মুলত ১৯৯০ সাল থেকে এই জলপ্রপাতটিতে পর্যটকদের ভীর বাড়তে থাকে। ১৯৯০ সালের শেষের দিক থেকে প্রায় ৩০০,০০০ হাজার মানুষ প্রতি বছর এই বৃহত্তম জলপ্রপাতটি দেখতে ভীর করে। পর্যটকদের এরকম অস্বাভাবিক আগমন দেখে জাম্বেসি নদীর উভয় প্রান্তেই পর্যটনক্ষেত্র বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৯৮৯ সালেই এটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে স্থান করে নেয়। এবং শুধু তাই নয়, এই জলপ্রপাতটি এখন পৃথিবীর প্রাকৃতিক সপ্ত আশ্চর্যের একটি।

ছবিঃ ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের উপর থেকে দৃশ্য

ভ্রমণের সময়ঃ

বছরের বিভিন্ন সময় জলপ্রপাতটির দৃশ্য বিভিন্নরকম হয়ে থাকে। বন্যা মৌসুমে, মার্চ এবং এপ্রিলের মাঝামাঝি যখন জলপ্রপাতটি তার পূর্ণ শক্তি ধারন করে তখন এটি দেখতে সবচেয়ে ভয়াবহ ও দৈত্যাকার হয়। এই মৌসুমে পতিত পানির প্রবাহ থেকে ক্রমবর্ধমান জলরাশির কারণে, জলপ্রপাতটির সম্পূর্ণ প্রস্থ দেখা যায় না। বর্ষার শেষের দিকে ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত থেকে গড়ে প্রায় ৫০০,০০০,০০০ লিটার পানি প্রবাহিত হয়। এই সময়ে শুধুমাত্র বায়বীয় দৃশ্যই দর্শনীয়। জলপ্রপাতটির সর্বনিম্ন পানির প্রবাহ থাকে নভেম্বর এবং ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে, এই ঋতুতে জলপ্রপাতটির পরিদর্শন সবথেকে আনন্দিত ও মনোমুগ্ধকর।

ছবিঃ ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতে সৃষ্ট রংধনু

জলপ্রপাতটি সম্পর্কে আরও জানতে ভিসিট করুন ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.victoriafalls.co.zm থেকে

ভিডিও সোর্সঃ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক্স

আশা করছি পৃথিবীর এই বৃহত্তম জলপ্রপাতটি সম্পর্কে আপনাদের একটু হলেও জানাতে পেরেছি। তাই দেরি না করে কখনো যদি সুযোগ হয় এই আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে ভুল করবেন না কিন্তু।