Saturday 28 July

শ্বেত শুভ্র ধুপপানি ঝর্ণা

থাকে না কিছু সৌন্দর্য, যারদিকে খালি হা...... করে তাকিয়ে থাকতে হয়। আর, মাঝে মাঝে সেই অপরূপ সৌন্দর্য গিলে ফেলে হজম করার বৃথা চেষ্টা করি আমরা!! সেই রকম একটি সৌন্দর্যের গল্প বলছি আজ আপনাদের।

নাম তার ধুপপানি ঝর্না। ভাবছেন, ধুপপানি!! এ আবার কেমন নাম! যেমনি নাম হোক না কেন, এর নামকরণ কিন্তু শুধু শুধু ধুপপানি রাখা হয় নি। একে বলা হয় শ্বেত শুভ্র পানির ঝর্ণা। ধুপ শব্দের হচ্ছে সাদা আর পানি মানে পানি, অর্থাৎ সাদা পানির ঝর্ণা। সমতল থেকে প্রায় ২০০ মিটার উঁচু থেকে যখন পানি নিচে গড়িয়ে পড়ে তখন পানির কনা গুলো অনেকটাই সাদা ফেনার জগত সৃষ্টি করে নিচে।

ধুপপানি ঝর্ণাটি রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের ওড়াছড়ি নামক এলাকায় অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে এ ঝর্ণার অস্তিত্ব কেউ জানতো না। ২০০০ সালের পরে এক বৌদ্ধ সন্যাসীর ধ্যান করা থেকে আস্তে আস্তে মানুষের চোখে নয়নাভিরাম এই ঝর্ণাটি পরিচিতি পেতে থাকে।

ওড়াছড়ি এলাকা থেকে নৌকা করে পাহাড়ের পাদদেশে পৌছে ট্র্যাকিং শুরু হয় ধুপপানি ঝর্নার দিকে। মাঝে ২ ঘন্টায় ২টি বড় পাহাড় ট্রেক করে পার হতে হবে, মাঝে পড়বে ধুপপানি পাড়া। ছোট ছোট মাচার মতো ঘর গুলো আর পাহাড়িদের জীবন যাপন ব্যবস্থা বেশ রোমাঞ্ছকর এখানে। ধুপপানি পাড়া থেকে ২০০ গজ নেমে হাতের বা পাশের পাহাড়ী সিড়ি বেয়ে নামলেই ধুপ পানি ঝর্ণার ঝিরিপথ পৌঁছে যাবেন। আর আপনি যখন বিশাল এই ঝর্ণার সামনে গিয়ে দাড়াবেন নিমিষেই তখন আপানর বিগত ৩-৪ ঘন্টার পাহাড় ট্র্যাকিং এর কস্ট উধাও হয়ে যাবে।

ছবিঃ ধুপপানি পাড়া

ঝর্ণার প্রাকৃতিক পরিবেশটা এখানে বেশ অদ্ভুত। আপনার মনে হবে আপনি কোন গ্যালারিতে বসে বুঝি ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন !! নিরেট পাথর ভেঙ্গে ভেঙ্গে এখানে গড়ে উঠছে প্রাকৃতিক গ্যালারি। সামনে তাকালেই দেখতে পাবেন ২০০ মিটার উঁচু থেকে শ্বেত শুভ্রের পানিয়া আছড়ে পড়ছে নিচের পানির ফোয়ারায়। নিচের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলেই দেখতে পাবেন পানির মাঝেই রংধনুর সাত রং খেলা করছে।

ছবিঃ ঝর্ণার নিচে সবাই যখন ধ্যানে ব্যাস্তcheeky

ধুপপানি ঝর্ণার নিচে গুহার মতো একটি যায়গা আছে যেখানে একটু রিস্ক নিয়ে চলে যেতে পারেন। সাবধান থাকবেন যাতে পিছলা না খান। এই গুহার মতো যায়গাটিতেই বৌদ্ধ সন্যাসিরা ধ্যান করেন। আপনিও চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষন বসে থেকে সেরে নিতে পারেন প্রাকৃতিক মেডিটেশন।

 

তবে একটা জিনিস মনে রাখবেন এ প্রকৃতি আমাদের, এর সৌন্দর্য রক্ষা করাও আমাদের দায়িত্ব, তাই এখানে কোন ধরনের ময়লা, পলিথিন, বা প্লাস্টিক জাতীয় কিছু ফেলবেন না।

যাবেন যেভাবে-

ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে কাপ্তাই ঝেটিঘাট। হানিফ, সৌদিয়া, শ্যমলী, এস আলম বাস যায় ভাড়া ৫৫০ টাকা করে। বেস্ট হবে সৌদিয়া। ঝেটিঘাট থেকে লোকাল বা রিজার্ভ বোটে বিলাইছড়ি। লোকাল বোটের ভাড়া পড়বে ৬০ টাকা করে প্রতিজন আর রিজার্ভ নিলে ১৫০০-২০০০। লোকাল বোট ছাড়া শুরু হয় সকাল ৮.৩০ থেকে। তারপর প্রতি ১/১.৩০ ঘন্টা পর পর বোট ছেড়ে যায়।  বিলাইছড়ি থেকে আবার বোট রিজার্ভ করে ওড়াছড়ি যাবেন। এখানে বোট ভাড়া পড়বে ২০০০ টাকার মতো । সেখান থেকে লোকাল গাইড নিয়ে চলে যাবেন ধুপপানি। গাইড ফি ৫০০-৬০০ টাকা।

 

সপ্নঘুড়ির সাথে থাকার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ । আমাদের পোস্ট গুলো যদি ভালো লেগে থাকে বা ইনফরমেটিভ হয় তাহলে প্লিজ শেয়ার করুন আপনার বন্ধু দের সাথে ।
"স্বপ্ন দেখুন, স্বপ্ন নিয়েই বাচুন, অন্যের স্বপ্ন কে উৎসাহ দিন"