Friday 16 November

আলো আসবেই - ফেসবুক জেনারেশনকে উৎসর্গ করে

সায়রা তুমি আমাদের ছেলেটাকে মানুষের মতো করে মানুষ করে গড়ে তোলো, যাতে সে একদিন নিজের পরিচয়ে বড় হতে পারে, নিজেকে নিজের পরিচয়ে চিনে আহ ইকবাল সাহেবের কত ইচ্ছা ছিলো ছেলেটাকে নিজের মতো করে একজন যোগ্য সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার! কিন্তু তা আর হলো না………

কথা গুলো আস্তে আস্তে মিলিয়ে যেতে থাকে একসময় সায়রা বেগমের মনে হয় কোন এক দূর গহ্বর থেকে ইকবাল সাহেবের শেষ কথা গুলো তাঁর কানে আসছে। দড়ফড়িয়ে সায়রা বেগম বিছানায় ঘুম থেকে উঠে বসেন। ঘুম জড়ানো চোখে সায়রা বেগমের মনে হলো আজ অনেক দিন পর তার প্রয়াত স্বামী সপ্নে এলেন তাদের একমাত্র সন্তান রুদ্র কে নিয়ে তাদের দেখা সপ্ন নিয়ে! হটাত করেই সায়রা বেগমের চোখ থেকে অঝোরে বেদনার অশ্রু ঝরতে থাকে ইকবাল সাহেবের কথা মনে করে।

পেশায় একজন সাংবাদিক ছিলেন ইকবাল সাহেবে। অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিক ছিলেন একটি আন্তর্জাতিক পত্রিকার। হুট করেই এক ব্যাবসায়ীর খুনের ঘটনায় গত বছর যখন দেশ জুড়ে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে তখন ইকবাল সাহেব সেই খুনের রিপোর্টের জন্য তদন্ত করতে গিয়ে দেখেন সেই ব্যাবসায়ী কে আসলে খুন করেছে দেশের ক্ষমতাশীল দলের উচ্চপদস্থ এক  মন্ত্রীর পোষা সন্ত্রাসীরা তাদের দাবী করা চাঁদা না পেয়ে। পরদিনের পত্রিকায় যখন ইকবাল সাহেব আসল ঘটনা দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরেন পুরো দেশ জুড়ে মানুষের মনে সরকারের প্রতি বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হয়। একসময় দলীয় চাপে বাধ্য হয়ে সেই মন্ত্রীর পদত্যাগ করা লাগে। কিন্তু প্রতিহিংসার এই দেশে সবার সামনে সত্য তুলে ধরার শাস্তি হিসেবে আরো অনেকে সৎ সাহসী মানুষের মতো সেই মন্ত্রীর পোষা খুনীদের হাতে ইকবাল সাহেবও একদিন আচমকা গুম হয়ে যান, তার কিছুদিন পর গাজীপুরে এক বনের ভিতর ইকবাল সাহেবের লাশ পাওয়া যায়।

সায়েরা বেগমের মনে পড়ে এভাবে অকাল বয়সে স্বামী কে হারিয়ে কতটা একা হয়য়ে যান তিনি ওদিকে তাদের একমাত্র সন্তান তখন মাত্র ৩য় শ্রেণীতে পড়ে। তাকে মানুষের মতো মানুষ করে বিশাল এক গুরু দায়িত্ব তখন সায়রা বেগমের উপর এসে পড়ে।

কাপড়ের আছল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে দেয়াল ঘড়িটার দিকে তাকান। রাত তখন ৩ টা বেজে ৩০ মিনিট। উকি দিয়ে তিনি দরজার বাহিরে তাকিয়ে দেখেন রুদ্রের রুম থেকে এখনো আলো আসছে। সায়রা বেগম বেশ চিন্তিত ভঙ্গিতে বিছানা থেকে উঠে দাড়ান। ছেলেটার যে আজকাল কি হয়েছে! এবার এস এসসি পরিক্ষা দিবে রুদ্র অথচ সে সারা রাত ধরে গেম খেলে না হয় ফেসবুক চালায়,বন্ধুদের সাথে কথা বলে কাটিয়ে দেয়। সারাদিন হাতে মোবাইল নিয়ে ঘুরাঘুরি করাই যেন তার একমাত্র কাজ। বেশ কয়েকবার ছেলেকে এগুলো থেকে বারণ করেছেন কিন্তু বাবা হারা ছেলেটাকে তিনি আদর স্নেহে বড় করতে চান কড়া শাসন দিয়ে নয়। কিন্তু ছেলেটার ইদানিং এই সারাদিন ফোন নিয়ে পড়ে থাকা সায়রা বেগমকে বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছে!

একটু কড়া ভঙ্গিতে সায়রা বেগম রুদ্রর দরজায় গিয়ে টোকা দিয়ে দেখেন কানে হেডফোন লাগিয়ে রুদ্র গান শুনছে আর ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে গল্প করছে সায়রা বেগম রাগত স্বরে বলে উঠলেনঃ

  • কি ব্যাপার রুদ্র রাত .৩০ বাজে আর তুমি এতো রাত এখনো না ঘুমিয়ে এগুলা কি করছো!
  • মা ঘুম আসছিলো না তাই বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি অনলাইনে
  • এই অনলাইন অনলাইন ছাড়া আর কি জানো তুমি হ্যা! দিন পর তোমার পরিক্ষা আর তুমি পড়ে আছো অনলাইনের জগত নিয়ে নিজের বাস্তব জীবনে মনোযোগ দাও

কিছুক্ষন বকাসকা দিয়ে সায়রা বেগম রুদ্রকে ঘুমাতে বিছানায় পাঠিয়ে বারান্দায় এসে গভীর চিন্তায় পড়ে গেলেন তার মনে পড়লো কিছুদিন আগেই তার বড় ভাই অর্থাৎ রুদ্রর মামা তাদের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন খেতে বসে ভাগিনাকে দেখলেন ভাগিনা ভাত খাচ্ছে আর মোবাইল টিপছে তাই তিনি ঠাট্টার চলে বলেছিলেন,

  • কি আমার ফেসবুক জেনারেশনের ভাগিনা, পড়াশুনা কিছু কি চলে নাকি খালি ফেসবুক টাই পড়া হয় খালি!

রুদ্র তখন মুখের উপরেই বলে দিয়েছিলো তার মামা কে,

  • জী মামা খুব ভালো করেই ফেসবুক টা পড়ছি কারণ তোমার মতো এতো পড়ে বিসিএস ক্যাডার হয়ে সরকারি ঘুষখোর ম্যাজিস্ট্রেট হতে চাই না আর অন্যায় কে চোখ মুখ বুঝে সইতে চাই না তাই তোমাদের অফলাইনের জগত থেকে অনলাইনেই ভালো আছি আর ফেসবুকটাই পড়ছি ভালো করে

পরদিন সায়রা বেগমের ভাই চলে যাবার সময় বলে গিয়েছিলো, সায়রা তোর এই ছেলেকে দিয়ে বেয়াদপি ছাড়া আর কিছু হবে না, আস্ত একটা বেয়াদপ হয়েছে রুদ্র ওয়াশরুম থেকে সব কথাই শুনে চুপ করে থাকে সায়রা বেগম মনে মনে ভাবে ছেলের কি দোষ, ছেলের গায়ে যে একজন সৎ মানুষের রক্ত বইছে সে যা সত্যি তা বলতে তবে কেনো সে পরোয়া করবে !! এগুলো ভাবতে ভাবতেই সায়রা বেগম বারান্দায় চেয়ারে আধশোয়া হয়েই ঘুমিয়ে পড়েন !!  

পরদিন সকালে রুদ্রকে টেনে বিছানা থেকে উঠিয়ে সায়রা বেগম স্কুলে দিয়ে আসেন সকালে বাসার টুকটাক কাজ সেরে বেলা ১২ টার খবর দেখতে টিভি টা যেই মাত্র খুললেন সাথে সাথেই দেখলেন স্ক্রিনে বিশেষ বুলেটিন ভাসছেঃ

সদ্য বেলা ১১.৫৫ মিনিটে রাজধানীর ক্যান্টমেন্টে পাব্লিক স্কুলের সামনে ফুটপাতে বেপরোয়া বাস উঠে পড়লে শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এবং অনেকেই আহত হয়”

সংবাদটি দেখেই সায়রা বেগমের সারা শরীরের পশম দাঁড়িয়ে যায় অজানা ভয়ে। সাথে সাথে হুড়মুড়িয়ে সায়রা বেগম রুদ্রর স্কুলের দিকে দৌড় দেন। কারণ,  মাত্র খবরে যেই স্কুলের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে রুদ্র সেই স্কুলেই পড়ে আর এখন রুদ্রদের স্কুল ছুটির সময় হয়ে গিয়েছে। ভিষণ উৎকণ্ঠা নিয়ে সায়রা বেগম স্কুলের কাছাকাছি এসে দেখেন স্কুলের সামনে ফুটপাতের উপর যমদূতের মত এক বাস ফুটপাতের উপর উঠে আছে আর সামনে অনেক মানুষের জটলা! ভিড় ঠেলে উকি দিয়ে দেখেন দুটি নিষ্পাপ বাচ্চার লাশ পড়ে আছে রক্তাক্ত অবস্থায়। সায়রা বেগম কাপা কাপা চোখে দেখলেন না লাশের মাঝে রুদ্র নেই। চাপা নিঃশ্বাস টা ছাড়লেও পর মুহূর্তে মারা যাওয়া ২ টি বাচ্চার মার কথা মনে পড়ে তারও মন বিষাদের ছায়ায় নুয়ে যায়। নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে সায়রা বেগম আশে পাশে রদ্রকে খুজতে থাকেন। স্কুলে, রাস্তায় কোথাও তিনি রুদ্রকে খুজে পান না। কেউ তার কথা বলতেও পারছে না, মানসিক চিন্তা করতে করতে সায়রা বেগম যখন ঘেমে একাকার দূর থেকেই দেখলেন সহপাঠী হত্যার বিচারে ছাত্রদের মিছিলে সবার সামনেই রুদ্র গলার রগ ফুলিয়ে স্লোগান দিচ্ছে “ আমার ভাইয়ের রক্ত কেনো রাস্তায়, বিচার চাই বিচার চাই!!

খানিকখনের জন্য সায়রা বেগম স্তব্ধ হয়ে পড়েন আদুরে ছেলেকে এমন অবস্থায় দেখে। তিনি রুদ্র কে দূর থেকে ডাকতে থাকেন। কিন্তু রুদ্রর তরুণ টগবগে শরীরে তখন বন্ধু হত্যার শোক আগুনের মতো জ্বলছে। সে তার মায়ের ডাক শুনতে পায় না। সে তখন ব্যাস্ত অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে সকলের নিরাপদ ভাবে বাচার অধিকার নিশ্চিত করার দাবীতে।

সায়রা বেগম মিছিলের ভিড়ে আবার রুদ্রকে হারিয়ে ফেলেন। এদিকে প্রচুর মানুষের ভিড় বেড়ে গিয়েছে রাস্তায়, ছাত্ররা সহপাঠীদের এহেন মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না । তারা রাস্তা দখল করে আক্রোশে ফুসছে। এদিকে পুলিশ ও আইন শৃখলা বাহিনীর সদস্যরাও চারপাশ ঘিরে ধরেছে। একসময় সায়রা বেগম ক্লান্ত শরীর নিয়ে রুদ্র কে ছাড়াই বাসায় ফিরে এসে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে তাহকেন তার প্রাণ প্রিয় কলিজার ছেলের যাতে কোন ক্ষতি না হয়। অনবরত জায়নামাজে সায়রা বেগমের অশ্রু ঝরতে থাকে সায়রা বেগমের রুদ্রর জন্য।

রাত ১১ টায় রুদ্র বাসায় ফিরে আসে ব্যান্ডেজে বাধা হাত নিয়ে। সায়রা বেগম অবাক বিস্ময়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে দেখেন কয়েক ঘন্টায় ছেলের মুখ শুকিয়ে গিয়েছে কিন্তু চেহারায় কিসের যেন এক জিদ ফুটে উঠেছে। যেটা তিনি ইকবাল সাআহেবের মাঝে দেখতেন যখন কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতেন। সায়রা বেগম কান্নাভরা কন্ঠে রুদ্রকে জিজ্ঞেস করেন, রুদ্র বাবা কি হয়েছে তোর ? তোর হাতে ব্যান্ডেজ কেনো!!!?

মা আমরা আমাদের ভাইদের অন্যায় হত্যার প্রতিবাদ করেছিলাম কেবল, আমরা আমাদের অধিকারের কথা বলেছিলাম কেবল তারা এটা পছন্দ করে নি। কারণ তারা আমাদের ভয় পায়, তারা ভয় আমাদের দাবি মানতে গিয়ে যদি তাদের সন্ত্রাস বাহীনি তাদেরকে ছেড়ে দেয় তাহলে তারা ক্ষমতায় টিকবে ! তাই তারা আমাদের হাত ভেঙ্গে দিতে চেয়েছে, চেয়েছে যাতে আমরা আঙ্গুল উচিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিছু বলতে না পারি।

সায়রা বেগম ছেলের মুখের দিকে অবাক হয়য়ে তাকিয়ে থাকেন কেবল, তার মনে হচ্ছে এই ১ দিনেই তার রুদ্র কত বড় হইয়ে গিয়েছে, আর কিছু বলেন না তিনি। ছেলেকে তাড়াতাড়ি হাত মুখ ধুইয়ে ভাত মাখিয়ে খাইয়ে দেন। এর মাঝেই রুদ্র বলে মা আমার মোবাইলটা একটু দাও ত। সায়রা বেগম আঁতকে উঠে বলেন –

  • এই ভাঙ্গা হাত নিয়ে মোবাইলে কি করবি তুই বাবা !
  • মা ফেসবুকে ঢুকবো।
  • ভাঙ্গা হাত নিয়েও তোর ফেসবুক চালাতে হবে!!!
  • জী মা। আমাকে ফেসবুকে ঢুকতে হবে আর মানুষকে জানাতে হবে আমরা কোন দেশে বাস করছি যেখানে একটি প্রাণ অবিচার ভাবে ঝরে গেলেও কেউ মুখ খুলতে পারবে না। আমাকে কিছু করতে হবে মা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে, এই খুনিদের বিরুদ্ধে। আর কতকাল আমরা মুখ বুঝে এসব অত্যাচার সহ্য করবো শোষক শ্রেনীর বলো। আমাকে তো বাবাই বলতো ছোটবেলায় “অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চেতিয়ে দাঁড়ানোর মাঝেই সুপুরুষের প্রমাণ বাবা”
    মা আমি কাপুরুষ হয়ে বাচতে চাই না। বাচলে সুপুরুষ হয়য়ে বাচবো নাহয় না।

রুদ্র মায়ের হাতে ভাত খেতে খেতে ফেসবুকে আজকের পুরো ঘটনা লিখে পোস্ট দেয়। কিছু সময়ের মাঝেই ফেসবুকে হাজার খানেক শেয়ার হ্য তার পোস্ট। তার বন্ধু বান্দব থেকে অনেক অপরিচিত মানুষ ধিক্কার জানাতে থাকে এই ঘটনায়। সে এই খুনিদের বিচারে আন্দোলনের জন্য একটি ফেসবুক ইভেন্ট খুলে। মাঝ রাতের মাঝেই প্রায় ২০ হাজার মানুষ সেই ইভেন্টে গোয়িং দেয়। রুদ্র মাঝ রাতে অনলাইনে বসে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের সাথে যোগাযোগ করে সাহায্য চায় এই অবিচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে। সবাই ভালো রকমের সাড়া দেয়। রুদ্র তার কাছের বন্ধু বান্দব দের সব রকমের দিক নির্দেশনা দিয়ে দেয় কাল রাস্তায় কোথায় কিভাবে আন্দোলন করতে হবে!!

সায়রা বেগম দূর থেকে রাত জেগে সবি দেখেন । কিন্তু আজ আর তিনি ছেলেকে বাধা দেন না রাত জেগে ফেসবুক চালাতে। কারণ, বুঝতে পেরেছেন রুদ্র এখন তার বাবার মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নেশায় মত্ত।

পরের টানা ১ সপ্তাহ পুরো বাংলাদেশ দেখে তারুণ্যের শক্তি। দেখে তথাকথিত এই ফেসবুক জেনারশনের শক্তি। যাদের দেখলে মুরব্বীরা বুড়ো উচিয়ে বলতেন আজকাল জুগের এসব বেয়াদপ ছেলেমেয়েদের দিয়ে কিছু হবে না তারা দেখেন – কিভাবে এই তরুণরা ঢাকার রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছে, তারা দেখিয়ে দিয়েছে রাস্তায় কিভাবে গাড়ি চালাতে হয়! তারা দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদঃ শান্তিপূর্ণ করতে হয়।

আর এই আলোর পথ জনগনকে দেখাতে গিয়ে সেই তরুণদেরই আবার ক্ষমতাশীলদের কাছে লাঠিপেটা সহ্য করতে হয়েছে। সহ্য করতে হয়েছে প্রশাসন থেকে নিপীড়ন। তবু রুদ্রর মতো এরকম লাখো রুদ্ররা রাজপথ ছাড়েনি। তারা সবার চোখ খুলে দিয়েছে। তারা সবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে দেশকে ভালোবেসে দেশের অন্যায় অনিয়ম দূর করে দেশ কে আলোর পথে নিয়ে যাওয়া যায়। আর এই ফেসবুক জেনেয়াশনের তরুণরা যে মুক্তিযুদ্ধের পর দেশে এতো বড় বিপ্লব করে বসবে সেটা কেউ আচ করতেই পারেনি। কিন্তু এখানেই তারুণ্যের শক্তি। রুদ্ররা যখন রুদ্রতাপ ধারণ করে তখন জুগে জুগে এভাবেই রুদ্ররা সমাজ সংস্কারের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। বুড়োদের মতো কেবল তারা টিভির শোতে দেশের অন্যায় অত্যাচার জুলুমের খবর দেখে নাক উচিয়ে বলেনি “ গেলো দেশটা রসাতলে”। এই তারুণ্য দেখিয়ে দিয়েছে দেশকে কিভাবে রসাতল থেকে টেনে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

আজ প্রায় ৩ মাস পর রুদ্রর মামা ওদের বাসায় আসলো রুদ্রের এস এস সি পরিক্ষার সময় তার দেখভালোর জন্য। ভাগিনাকে কাছে টেনে নিয়ে বললেন
- রুদ্র বাবা আমাকে ক্ষমা করে দিস, আমি তোকে ভুল ভাবে জাজ করেছিলাম।

  • ভদ্রতার খাতিরে রুদ্র মামা কে বললো না মা আম কিছু না ওগুলো।
  • তোহ আজ যে ফেসবুক চালাচ্ছিস না !
  • মামা আমার পরিক্ষা।

পকেট থেকে নতুন একটা ফোন বের করে তিনি রুদ্রের হাতে দিয়ে বললেন

  • সায়রা বললো তোর ফোনটা নাকি পুরান হয়য়ে গিয়েছে এই নে তোর নতুন ফোন। এই ফোনে ভালো করে ফেসবুক চালাতে পারবি।
  • কেনো মামা আবার ফেসবুক জেনারেশন বলে খোচা দিতে !!!
  • না রুদ্র তোদের দিয়েই আলো আসবে একদিন এই দেশে। তুইও আমার ভাগিনা হয়য়ে এতো বড় একটা আন্দোলনের যখন নেতৃত্ব দিলি তখন তোর সৎ সাহস দেখে মামা হিসেবে আমার গর্ভে বুক ফুলে উঠে। তারপর থেকে আমি সংকল্পবদ্ধ হই জীবনে আর কখনো ঘুষ নিবো না। সৎ হয়ে বাঁচবো ।

রুদ্র অশ্রস্নাত চোখে মামাকে জড়িয়ে ধরে বলে,

  • মামা আমার নতুন মোবাইল লাগবে না, এই যে তুমি প্রতিজ্ঞা করেছো আর কখনো ঘুষ নিবে না এটাই আমার সবচেয়ে বড় উপহার মামা।

ভাগিনার এমন বড় মাপের মনের পরিচয় পেয়ে রুদ্রকে আরো জাপ্টে ধরেন তিনি। দু জনের চোখেই তখন আনন্দের অশ্রু।

পর্দার আড়াল থেকে সায়রা বেগম এ দৃশ্য দেখে কান্নামিশ্রিত মুচকি হাসি হাসেন। আর ইকবাল সাহেবের কথা মনে করে ভাবেন আজ রুদ্রকে দেখলে আজ তিনি কত খুশি হতেন। মনে মনে সায়রা বেগম ইকবাল সাহেব কে লক্ষ্য করে বিড়বিড় করে বলে উঠেন “ তোমার ছেলেকে আমি তোমার মতো করেই মানুষ করে বড় করছি ইকবাল”।

ওদিকে রুদ্রের মামা চোখের অশ্রু সামলে ভাগিনাকে বলে উঠেন,

  • এই রুদ্র, এবার আমাকেও একটা ফেসবুক আইডি খুলে দে তো। আমিও তোদের মতো ফেসবুক চালাবো।
  • মামা তুমি ফেসবুক চালিয়ে কি করবে!
  • আরে বোকা তোদের এই ফেসবুক জেনারশন থেকে যদি দেশ এতো বড় সেবা পেতে পারে তাহলে আমিও তোদের জেনারেশনের একজন হতে চাই।
  • রুদ্র মুচকি হেসে বলে, হয়েছে মামা তো তোমার আইডির নাম কি দিবো প্রিন্স অব কুইন্সেস !!!
  • কি বলিস এমন আবার নাম হয় নাকি আবার!!!!!

রুদ্র হাসতে থাকে আর আনমনেই বলে হ্যা হয় এই ফেসবুক জেনারেশন দিয়ে যেমন অনেক লেইম কাজও হয় তেমনি অনেক মহৎ কাজও হয় যা হবে কেউ কখনোও ভাবেনি আগে। রুদ্র হটাত করেই নিজের ভিতর এক আলো খুজে পায়। খুজে পায় ভালো কিছু করার প্রেরণা। রুদ্র জানে এভাবে এমন হাজারো রুদ্রের হাত ধরেই আলো আসবে।

 

আলো আসবেই একদিন............... আসতেই হবে। রুদ্র আজ তার বাবা ইকবাল সাহেবকে খুব মিস করছে, ইশশ বাবা আজ যদি তুমি বেঁচে থাকতে তাহলে তোমাকে আমার আলোর উৎস বানাতাম আমি !   .............................. (চলবে)।

 

আব্দুল্লাহ আফনান
১১ ই নভেম্বর ২০১৮, রাত ৪ টা বেজে ৯।