Monday 22 January

২০২০ সাল নাগাদ আমাদের যেই ১০ টি স্কিল থাকতেই হবে ! (পর্ব - ১ )

নিজের গাড়ী নিজেই ড্রাইভিং করা, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার জানা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এর উপর ধারণা রাখা, এগুলো কেবল এখন আর মুভির হিরোদের করতেই দেখা যায় না। এগুলো সবি এখন উন্নত বিশ্বের মানুষের স্কিলের অংশ। প্রযুক্তির অভাবনীয় সাফল্যের সাথে দিন দিন যেমন টেকনোলোজি আপগ্রেড হচ্ছে তেমনি মানুষ হিসেবে আমাদেরও এসব প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জানতে হবে । আর তার জন্য চাই, নিজেদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট। আজ আমরা জানবো ২০২০ সালের মাঝে উন্নত বিশ্বের মানুষ হিসেবে আমাদের কোন ১০ টি স্কিল থাকা বাঞ্ছনীয়
 
আমরা এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি। আর এই যুগে আমাদেরকে টিকিয়ে রাখতে হলে চলুন দেখে আসি কি কি দক্ষতা আমাদের ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে পারে। সেরকম ৫টি স্কিল নিয়ে আজ আমরা জানবো -
 
১. নমনীয় জ্ঞান
জ্ঞানীয় নমনীয়তা হচ্ছে এক ধরনের মানসিক ব্যায়াম করাআর এই মানসিক ব্যায়াম করার দ্বারা আপনি আপনার ব্রেইন কে খুব দ্রুত একটি কাজ থেকে অন্য একটি কাজে সুইং করতে পারবেনআপনি যত জটিল জটিল জিনিস নিয়ে এই মানসিক ব্যায়ামের পরিচর্যা করবেন আপনার ব্রেইন তত দ্রুত কাজ করার মত যোগ্য হবে। তখন আপনি সহজেই জটিল কোন জিনিসের সহজ সমাধান করতে পারবেন। অনেক বিজ্ঞানী ইতিমধ্যে জ্ঞানীয় নমনীয়তা কে ভবিষ্যতে নিজেকে সেইফ রাখার একটি হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করছেন।
আর জ্ঞানীয় নমনীয়তা এর দক্ষতা বাড়াতে আপানকে আপনার আগ্রহগুলোকে প্রসারিত করতে হবে। নিজের আরামদায়ক জীবন থেকে বেরিয়ে জটিল কোন কাজের সমাধান করার জন্য ব্রেইন স্টরমিং করতে হবে। আর নীজের জীবন কে নিয়ে দেওয়া অন্যের চ্যালেঞ্জ কে আনন্দের সহিত গ্রহণ করুন। কারণ, এটি আপনার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্যই উত্তম ।
 
২. যৌক্তিক আলাপ-আলোচনা
ভবিষ্যতে আপনাকে আপনার অধিকার বুঝে নেওয়ার জন্য যৌক্তিক আলাপ-আলোচনা করার দক্ষতা অবশ্যই থাকতে হবে। কারণ, আমরা এখনো হয়তো বা মানুষের সাথেই সব আলাপ-আলোচনা করে থাকি। কিন্তু প্রযুক্তির বিকাশে এখন সময় এসেছে আমাদের রোবট এর সাথে আলাপ আলোচনা করার। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার অভাবনীয় সাফল্যে আস্তে আস্তে বড় বড় কোম্পানী গুলো হয়তো অনেক পদেই মানুষের বদলে উন্নত মানের রোবট ব্যবহার করবে তখন আমাদের রোবটের সাথেই হয়তো আলোচনা করে কোন চুক্তি করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের যৌক্তিক আলোচনা করার মত যোগ্যতা থাকতে হবে । তাই বেঁচে থাকার যুদ্ধে ভবিষ্যতে আমাদের কে অবশ্যই এ ব্যপারে দক্ষ হতে হবে। তাই আজ থেকেই আমাদের যৌক্তিক ভাবে নিজের কথা উপস্থাপন করা ও কোন কিছু আদায় করার চর্চা শুরু করতে হবে। যদি আমরা পিছিয়ে থাকতে না চাই।
 
৩. সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ ও উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
২০২০ সালে সময়োপযোগী করে নিজেকে গড়ে তোলার জন্য আরেকটি অন্যতম স্কিল হলো সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ ও উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার যোগ্যতা থাকা। কারণ, ২০২০ সালে নাগাদ প্রতিটি চাকুরীর ইন্টারভিউ তেই এ ব্যপারে খুব জোর দেওয়া হবে। কারণ, প্রতিযোগিতা মূলক মার্কেটে একটি কোম্পানি তখনি আপনার উপর ভরসা করবে যখন তারা বুঝতে পারবে আপনি তাদের কোম্পানির স্বার্থে সঠিক ভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে একটি উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যেটি কোম্পানির জন্য লাভবান হবে।
আর এই স্কিলের জন্য চাই নিজের উপর আত্ন বিশ্বাস । আর রিসার্চ করার ক্ষমতা । তবে আজ থেকেই লেগে পড়ুন নিজের স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর পিছনে ।
 
৪. মানসিক বুদ্ধি
বিখ্যাত কিছু কোম্পানির এইচআর ডিপার্টমেন্ট থেকে জানা গিয়েছে, যখনি কোন চাকুরীজীবীর দক্ষতার কথা আসে তখনি তাদের কাছে প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে – ঐ কর্মীর মানসিক বুদ্ধি কতটা প্রখর !
অনুভূতিমূলক বুদ্ধিমত্তা 2.0 এর সহ-লেখক, ট্রাইভিস ব্র্যাডবারি ব্যাখ্যা করেন যে মানসিক বুদ্ধিমত্তা 'অন্য ধরনের স্মার্ট।' এটি এমন অমূল্য 'কিছু' যা আমাদের মানবিক আবেগগুলির কেলিডিওস্কোপে সুরক্ষিত করে এবং আমাদের আচরণকে কিভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হয় তা নির্ধারণ করে। আর আমাদের মানসিক বুদ্ধি নিজস্ব অভ্যন্তরীণ অনুভূতির উপর নির্ভর করে। তাই বলা যায়, নিজেদের অনুভূতির জগত টাকে সবসময় সতেজ রাখতে হবে। তবেই আমাদের মানসিক বুদ্ধির বিকাশ ঘটবে।
 
৫. অন্যের সাথে সমন্বয়
সহযোগিতা মূলক কাজের পরিবেশ তৈরি করা সহজ কথা নয় । বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি গুলোতে কেবল সুন্দর একটি কাজের পরিবেশ তৈরির জন্যই রয়েছে আলাদা কিছু মানুষ। অর্থাৎ সমন্বয়কারী দল। আর অন্যের সাথে মানিয়ে নিয়ে চলা ও পারসোনাল স্কিল গুলোড় মাঝেও অন্যতম একটি স্কিল । আর ভবিষ্যতে সামাজিক কিছু স্কিল মানুষ আর রোবটের বিরাট পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। আর এদিক থেকে আমরা রোবট থেকে অনেকটাই এগিয়ে। আমাদের কর্মক্ষেত্রে একের সাথে অপরের মিথস্ক্রিয়া গুলো আমাদের কর্ম উৎপাদনের সাথে জড়িত থাকে। একটি টিমের সবার মাঝে সমন্বয় থাকলে অবশ্যই সেখান থেকে একটি কাজের ভালো ফলাফল আসবে । তাই অন্যের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার যোগ্যতা আমাদের মাঝে অবশ্যই ২০২০ সালের মাঝে থাকতে হবে।
 
পৃথিবীর প্রতিটি ঘূর্ণন এর সাথে উন্নত বিশ্ব ও অনেক এগিয়ে যাচ্ছে সাথে তাদের জনগণ ও এগিয়ে যাচ্ছে নিজেদের নানা স্কিল ডেভেলপমেন্ট করে। তবে আমরাই বা কেনো পিছিয়ে রবো। চলুন আমরাও প্রস্তুত হই আগাম ভবিষ্যৎ এর জন্য। যাতে আমাদের হাত ধরেই বাংলাদেশ ও উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। আর তার জন্য, সবার আগে প্রয়োজন আমাদের প্রত্যেকের আত্ন-দক্ষতা বৃদ্ধি।
 
এ পর্বে আমরা ৫ টি দক্ষতা নিয়ে কথা বলেছি। ইনশা আল্লাহ পরের পর্বে আমরা আরো গুরুত্বপূর্ণ ৫ টি দক্ষতা নিয়ে কথা বলবো ।
 
সপ্ন দেখুন, সপ্ন নিয়েই বাঁচুন। আর, সপ্নঘুড়ির সাথেই থাকুন । ধন্যবাদ ।